26 February, 2019

about

প্রথম ডি এস এল আর ক্যামেরা কিনার আগে যেই সকল বিষয় জানতে হবে।

ফটোগ্রাফি,

বর্তমান যুগে ফটোগ্রাফি দিন কি দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তো ফটোগ্রাফির কথা আসলে সবার আগে যেই কথাটা মাথায় আসে তা হলো ভাল ক্যামেরা। যারা প্রফেশনালি ফটোগ্রাফি করার কথা ভাবে তারা ডিএসএলআর ক্যামেরা নিয়ে ফটোগ্রাফিতে মনোযোগ দেয়। তো প্রথম যারা ক্যামেরা কিনতে যায় তখন তারা হ্যাজিট্যাশনে পড়ে যায় ক্যামেরা কোন মডেলের নিবো! কি লেন্স নিবো! কি সেন্সর ভাল হবে! ডিস্প্লে কোনটা ভাল! ব্যাটারি ব্যাকাপ কি রকম! ইত্যাদি অনেক প্রশ্ন চলে আসে। 

সুতরাং,

প্রথম ক্যামেরা কেনার আগে যে জিনিষ গুলো জানা জরুরীঃ

  • ক্যামেরা বডি।
  • সেন্সর টাইপস।
  • সেন্সর সাইজ।
  • লেন্স।
  • ডিসপ্লে।
  • ব্যাটারি।

ক্যামেরা বডিঃ

ম্যাক্সিমাম মানুষই ক্যামেরার বাহ্যিক গঠন নিয়ে অনেক সেন্সিটিভ। বর্তমানে এত এত ক্যামেরার মাঝে নিজের পছন্দের ক্যামেরা বাছাই করতে আসলেই হিমসিম খাওয়া লাগে। তারপরেও আপনার বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী যেই মডেলের ক্যামেরা কিনবেন তার বাহ্যিক গঠনের সাথে কাস্টম বাটন গুলার পজিশন আপনার ফটোগ্রাফি স্টাইলের সাথে ম্যাচ করছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিবেন।

সেন্সর টাইপসঃ

 সেন্সর হচ্ছে একটি কঠিন-স্থিতিশীল ডিভাইস যা একটি ডিজিটাল চিত্র তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় আলো ধারণ করে। সুতরাং সেন্সর ছাড়া ভাল ছবি কল্পনাতীত। তাই ডি এস এল আর কিনার জন্য সেন্সর নির্বাচন করা খুব জরুরী। কারন আপনার সেন্সর সাইজ যত বড় হবে, ক্যামেরা তার চিত্র তৈরি করতে তত প্রয়োজনীয় আলো ধারন করতে পারবে। বর্তমান বাজারে দুই ধরনের সেন্সর পাওয়া যায়। 

  • CCD= Charged-Couple Device.
  • CMOS= Complementary Metal–Oxide–Semiconductor.
সিসিডিঃ 

সিসিডি সেন্সর প্রায় সব ধরনের পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা এবং অনেক ডিজিটাল এস এল আর ক্যামেরায় ব্যবহৃত হয়। সিসিডি সেন্সর উচ্চ মানের ছবি তৈরি করে। যদিও এই সেন্সর দ্বারা উৎপাদিত ক্যামেরা গুলো খুব ব্যয় বহুল এবং অন্য সেন্সরের তুলনায় এটা বেশি পাওয়ার নষ্ট করে।

সিএমওসঃ 

সিএমওএস সেন্সর সিসিডি সেন্সর থেকে বড় তাই এটির সারফেস সিসিডী থেকে আরো বেশি আলোধারন করতে সক্ষম। ফলস্বরূপ, সিএমওএস সেন্সর সিসিডি সেন্সর থেকে সূক্ষ্ম ও গুনমানের উচ্চ কোয়ালিটি সম্পন্ন ছবি তৈরি করে। তাছাড়া এই সেন্সরটি ইউজার ফ্রেন্ডলি, সহজলভ্য এবং পাওয়ার ও খুব কম নষ্ট করে। সুতরাং, সিসিডি থেকে সিএসই সেন্সর নির্বাচনেই মনোযোগ দেওয়া উচিত আমাদের।

সেন্সর সাইজঃ 

সেন্সরের সাইজ; চিত্রের গুনগতমান বজায় রাখা, ক্যামেরার লেন্স কিভাবে কাজ করে, এবং কম আলোতে কিভাবে সঞ্চালিত হয় তার উপর প্রভাব বিস্তার করে।*তিন ধরনের মৌলিক সেন্সর রয়েছে।

  •  Full Film Format     
  •  APS Format    
  •  Four Thirds Form
Full Film Sensor: 

২৪ মিঃমিঃ হাইট এবং ৩৬ মিঃমিঃ ওয়েট এই সাইজের সেন্সর কে ফুল ফিল্ম সেন্সর বলা হয়ে থাকে। এটাকে ৩৫ মিঃমিঃ ফিল্ম ও বলা হয়ে থাকে।সেন্সর যত বড় হবে ক্যামেরা তত বেশি “ফিল্ড অফ ভিউ” পাবে এবং ক্যামেরাবন্দী করে নিবে। এবং কম আলোতেও ভাল চিত্র তুলে নিবে। ফুল ফ্রম সেন্সরে “ফিল্ড অফ ভিউ” বেশি ধারন হয় যার ফলে নির্দিষ্ট কোন অবজেক্ট টার্গেট হয়না বরং পুরো ভিউ টাই টার্গেট হয়। যার ফলে ল্যান্ডস্কেপ চিত্রে ফুল ফ্রম সেন্সর ভাল পারফরমেন্স দেয়। এক্ষেত্রে ফুল ফ্রেম সেন্সর আদর্শ। 

APS Format: 

১৬.৭ মিঃমিঃ হাইট এবং ২৫.১ মিঃমিঃ ওয়েট এই সাইজের সেন্সর কে APS Format Sensor বলা হয়। একে ক্রপ সেন্সর ও বলা হয়। এর এস্পেক্ট রেশিও হচ্ছে ৩:২। এই সেন্সর দূরের অবজেক্ট কে কাছে নিয়ে আসে। অর্থাৎ এতে চিত্র যুম ইন হয়। ধরুন, আপনি একটা পাখির ছবি নিতে চাচ্ছেন তাহলে এই সেন্সরে দূরের পাখিটা যুম ইন হয়ে কাছে চলে আসবে। এক্ষেত্রে Full From Sensor থেক APS Format Sensor ভাল পারফরমেন্স দেয়। 

Four Thirds Form: 

এই সেন্সর ২২.৫ মিঃমিঃ ডায়াগনালে ১৩.৫ মিঃমিঃ হাইট এবং ১৮ মিঃমিঃ ওয়েট এর চিত্র আর ২১.৬ মিঃমিঃ ডায়াগনালে ১৩ মিঃমিঃ হাইট এবং ১৭.৩ মিঃমিঃ চিত্র দিয়ে থাকে। এর এস্পেক্ট রেশিও ৪:৩। এটি ভিডিওগ্রাফাদের জন্য পারফেক্ট। সুতরাং, আপনি যদি ল্যান্ডস্কেপ চিত্র অথবা ভিডিও নিতে চান এবং আপনার বাজেট বেশি থাকে তাহলে Full Form Sensor নেওয়া উচিৎ। আর যদি নির্দিষ্ট কোন অবজেক্ট কে টার্গেট করে ফটোগ্রাফি করতে চান এবং বাজেট খুব বেশি না হয় তাহলে APS Format Sensor নেওয়া উচিৎ। এবং যদি ভিডিওগ্রাফি আপনার প্রধান লক্ষ্য হয় তাহলে Four Thirds Form নেওয়া উচিৎ। 

 

লেন্সঃ 

লেন্স প্রধানত ২ ধরনের।১। প্রাইম লেন্স২। জুম লেন্স 

প্রাইম লেন্সঃ 

প্রাইম লেন্স দিয়ে ছবি যুম করা যায় না। এক্ষেত্রে আপনাকে যুম ইন/ যুম আউট করতে হলে ক্যামেরা নিয়ে অবজেক্ট এর সামনে যেয়ে, পেছনে যেয়ে ছবি তোলা লাগবে। প্রাইম লেন্স এর গঠন জুম লেন্সের তুলনায় অনেক সরল আর এই জন্যই প্রাইম লেন্স জুম লেন্স এর থেকে ছবিতে ভাল শার্প, ব্র্যাকগ্রাউন্ড ব্লার দেয়।

জুম লেন্সঃ 

জুম লেন্স এর সাহায্যে অনেক দূরের অবজেক্ট কে ক্যামেরাবন্ধী করা যায়। এর জন্য প্রাইম লেন্সের মত অবজেক্ট এর সামনে পেছনে যাওয়া লাগে না।জুম লেন্স দিয়ে ছবি নিতে গেলে হাতের সামান্য কম্পনে মোশন ব্লার চলে আসে। কিন্তু আপনার লেন্সে যদি “Image Stabilization” ফিচার টা থাকে তাহলে আপনার এই সমস্যার সম্মুখীন হওয়া লাগবে না।

ডিস্প্লেঃ 

ডিএসএলআর ক্যামেরার জন্য LCD Display ই বেষ্ট অপশন। 

ব্যাটারিঃ 

ডিএসএলআর এর ব্যাটারি চার্জ বেশি সময় থাকেনা। কারন এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মোটর, ফ্ল্যাশ ও অনেক এডভান্স অপশন থাকে যার ফলে খুব তাড়াতাড়ি ব্যাটারি চার্জ নিঃশেষ হয়।আর ক্যামেরা কেনার সাথে এক্সট্রা ব্যাটারি কিনে নেওয়া ভাল। কারন ক্যামেরা মডেল পুরোনো হয়ে গেলে ব্যাটারি আর মার্কেটে সুলভ থাকে না। 

অন্যান্যঃ 

ক্যামেরা কেনার সময় অবশ্যই অন্যান্য ফিচার গুলো ঠিকমত প্লেসড এন্ড কাজ করছে কি নাহ যাচাই করে নিবেন।

শেষ কথাঃ

 একটা ভাল ক্যামেরা কখনোই আপনাকে ভাল ফটোগ্রাফার বানিয়ে দিবে না। ভাল ফটোগ্রাফার হওয়ার জন্য আপনার দরকার ধৈর্য, মানষিকতা। জানতে হবে ক্যামেরার সব ফিচারের পারফেক্ট ব্যাবহার।